আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। দিনেরে প্রথমার্ধে জার্মানির ট্রেড ব্যালেন্স এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিবেদনগুলোর গুরুত্ব বেশ কম এবং সম্ভবত ট্রেডারদের ততটা আগ্রহ আকর্ষণ করবে না। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা ট্রেডারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে মজুরি সংক্রান্ত একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন রিপোর্ট এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্সও প্রকাশিত হবে।
শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে আমরা ক্রিস্টিন লাগার্ড ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের (কিপোলোনি, ডে গুইন্ডোস, স্নাবেল) এবং ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধিদের (গুলসবি, ওয়ালার, ডালি, বোম্যান) বক্তব্যের কথা উল্লেখ করতে পারি। তবে গত সপ্তাহে ফেড, ইসিবি ও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই সবগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিগত অবস্থান সম্পর্কে জানে। আমরা জানতে পেরেছি যে 2026 সালে ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনবে না, আর ইসিবি ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং বাড়তি মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে অত্যধিক উদ্বিগ্ন নয়, তারা আশা করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সমাধান হবে ও হরমুজ প্রণালী অবরোধমুক্ত হবে। যদি জরুরি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে ইসিবি ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এই গ্রীষ্মে মূল সুদের হার বাড়াতে প্রস্তুত, কিন্তু ফেড তা করার অবস্থায় নেই। তাই এক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের অবস্থান বদলে যাবে সেই সম্ভাবনা বেশ কম।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পথে আছে যার মাধ্যমে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হবে, হরমুজ প্রণালী অবরোধমুক্ত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপনের শর্তাবলী সমন্বয় করা হবে। তবে বাস্তবে, ইরান সোমবার ও মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপর বোমা হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজের উপর হামলা করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে কয়েকটি ইরানী নৌকা ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানে বিস্ফোরণের সংবাদ এসেছে, তবে এ ব্যাপারে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে, গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদন ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবের কারণে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা যেতে পারে—যেকোনো মুহূর্তে মার্কেটে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যেতে পারে। বাস্তবে, ইউরো ও পাউন্ড উভয়ই কয়েক সপ্তাহ ধরে রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং করছে, কিন্তু আজ সবকিছু বদলে যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1745-1.1754 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, আর ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3587-1.3598 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।